পদ্মা ও বড়ালের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চারঘাট। উত্তরে বড়াল নদী যা যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। পদ্মার পাশ ঘেঁষে সরদহ পুলিশ ট্রেনিং কলেজ অবস্থিত। দক্ষিণে আলহাজ্ব এম.এ. হাদী কলেজ ও ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা। পূর্বে চারঘাট উপজেলা পরিষদ ও চারঘাট বাজার অবস্থিত, যা খয়েরের জন্য আজও বিখ্যাত। পশ্চিমে চারঘাট মডেল থানা ও ডাকঘর, স্বর্ণপসরণী পদ্মা নদী। এরই মধ্যস্থলে অত্র এলাকার বিদ্যানুরাগী কৃতি সন্তানদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২৫ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে পদ্মা নদীর নামানুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় “পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়”।
ইতিহাস: চারঘাটের কিছু বিদ্যানুরাগী কৃতি সন্তানদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ০১ জানুয়ারি ১৯৮৭ তারিখে “শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন কে.জি. স্কুল” প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে উক্ত বিদ্যালয়’কে কে.জি‘র পাশাপাশি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশনের জটিলতার কারণে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে “পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়” রাখা হয়।
এরপর ১ জানুয়ারি ১৯৯৬ সাল থেকে নিম্ন মাধ্যমিক স্তর, ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে নবম শ্রেণি এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে দশম শ্রেণি (বিজ্ঞান বিভাগসহ) অনুমোদন লাভ করে। অত্র এলাকার জনসাধারণের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকল এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নাম, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই এ বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে, স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবকের উদ্যোগে। এর পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হাসেম, রাহেনুল হক রাহেন (এম.পি), নূরুন্নবী চাঁদ (এম.পি), নাজমুল হাসান কচি, রমজান আলী রাঙ্গা, আরও অনেকেই যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার, যা গ্রামের প্রতিটি ছেলেমেয়েকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।
প্রথমদিকে বিদ্যালয়টি ছিল টিনশেড ঘরের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ, কিন্তু শিক্ষার প্রতি এলাকাবাসীর আগ্রহ ও শিক্ষকদের নিষ্ঠার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপ নেয়। বিদ্যালয়টি জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে এবং বিজ্ঞান ও মানবিক শিক্ষা শাখায় শিক্ষাদান করে থাকে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ পাঠদানের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি এবং সুন্দর খেলার মাঠ।
শুধু একাডেমিক শিক্ষায় নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুনাম অর্জন করেছে। প্রতি বছর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি ভালো ফলাফল করে, যা আমাদের শিক্ষার মান ও ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ।
পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কাহিনি নয়, এটি একটি অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, পরিশ্রম ও স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নের প্রতীক।
